
ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়ায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ-কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন ২৫ থেকে ৪০টি পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩ হাত চওড়া ও ৩০-৩৫ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকোটির বাঁশ ভেঙে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি তার নিজের মেয়ে মারা যাওয়ার পরও জরাজীর্ণ এই সাঁকোর কারণে লাশ পার করে মূল সড়কে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়ি থেকে মাত্র ৩০-৩৫ ফুট সাঁকো পার হলেই মূল সড়ক, অথচ এমন করুণ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলা সহকারী সচিব ও মহেশপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই। তিনি ভুক্তভোগী স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক জানান, বিষয়টি আগে তাদের জানা ছিল না এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকেও জানানো হয়নি। এখন বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসবাস সত্ত্বেও কেন নিজেদের অর্থ ও শ্রমে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করতে হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। দুর্ঘটনা এড়াতে জরাজীর্ণ এই বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে অবিলম্বে একটি স্থায়ী সেতু অথবা চলাচলের উপযোগী পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply