
ঝিনাইদহে এক ব্যতিক্রমী অথচ বিতর্কিত ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর কেড়েছে। এক যুবক একটি ছোট ছাগল দিয়ে টানা গাড়ি বানিয়ে তাতে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছাগলটিকে সামনের দিকে চালিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে এক অভিনব কৌশল—গাড়ির সামনের অংশে কাঠির মাথায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তাজা কাঁঠালের পাতা। খাবারের লোভে ছাগলটি সামনে এগোতে গেলেই পেছন থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে চালকসহ আস্ত একটি গাড়ি।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল ও বৈচিত্র্য সৃষ্টি করলেও, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে পৌঁছানোর পর শুরু হয়েছে চরম আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঠ ও ছোট চাকা ব্যবহার করে ওই যুবক নিজের হাতে গাড়িটি তৈরি করেছেন। তবে গরু, ঘোড়া কিংবা গাধার পরিবর্তে একটি অতি ক্ষুদ্রাকৃতির ছাগল দিয়ে ভারী গাড়ি ও একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ভার বহন করানো নিয়ে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয়রা।
বিশেষজ্ঞ ও প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, ছাগলের শারীরিক গঠন কোনোভাবেই ‘টানার প্রাণী’ (Draft Animal) হিসেবে অতিরিক্ত ভার বহনের উপযোগী নয়। কেবল গাড়িতে চাকা থাকার কারণে কম শক্তিতে গাড়ি সচল হলেও, ছাগলটির ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি ওজন টানতে হচ্ছে। এতে করে প্রাণীটির মেরুদণ্ড বেঁকে যাওয়া, জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অকালমৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সামনে খাবারের লোভ দেখিয়ে অবুঝ প্রাণীকে দিয়ে এভাবে ভারী কাজ করানোকে তারা এক ধরনের ‘মেকানিক্যাল নির্যাতন’ বলে অভিহিত করছেন।
কৌতূহল মেটাতে বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি এই দৃশ্যটি পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ এবং প্রাণী সুরক্ষা আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সচেতন মহল ঘটনাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply